শরিয়াহ আইন
শরিয়াহ আইন কারো কাছে চাওয়ার বিষয়বস্তু নয়। হযরত আবু বকর রাঃ এর মাত্র দুই বছর খিলাফতকালে মদিনা থেকে দামেস্ক পর্যন্ত এতো বিশাল এলাকা মুসলমানরা দখল করে নেয়। এরপর ওমর রাঃ খিলাফত গ্রহন করে খালিদ বিন ওয়ালিদ রাঃ-এর পরিবর্তে আবু ওবায়দা রাঃ কে মুসলিম আর্মির লিডার বানান। তার নেতৃত্বে মুসলিমরা এমেসসা (বর্তমান হোমস) শহর দখ*ল করে।
এরপর মুসলিম বাহি*নীরর লক্ষ ছিলো রোমান সম্রাজ্যের তুর্কির দিকে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু ওমর রাঃ থেকে খবর আসে যে, মুসলমানরা আপাতত আর সামনে আগাবে না। এরই সাথে এমেসসার পর আর কোনো এলাকা জয় না করার বিষয়টিও বলা হয় মুসলিম বাহি*নীকে।
কিন্তু কেন? কেন থামিয়ে দেয়া হয় শহরের পর শহর জয় করা বীর মুসলিম বাহি*নীকে? কারনটা রয়েছে মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরাতে। তাকে একসময় মক্কার নেতা বানানোর অফার করে মুশ//রিকরা। শর্ত মিথ্যা ইলাহর পাশাপাশি সত্য ইলাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা-র ইবাদত চলবে। মানে বর্তমান সময়ের ধর্ম নিরপেক্ষতা আরকি। কিন্তু মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি না মেনে যে নির্মম অত্যাচার সহ্য করেছেন তা আমরা জানি। এর কারন হলঃ ইসলাম মানেই বড় বড় সাম্রাজ্য দখল করা নয়।
ওমর রাঃ যখন দেখলেন যে, মুসলিমরা বড় বড় শহর জয় করছে তো ঠিকই কিন্তু মানুষ মুমিন বান্দা হচ্ছে না, তখন তিনি সকল সাম**রিক অভি/যান বন্ধ করে আবু ওবায়দা রাঃ কে নির্দেশ দিলেন মানুষদের ইসলাম শিখানোর, দাওয়াহ কার্যক্রম চালানোর। খালিদ রাঃ এর পরিবর্ততে আবু ওবায়দা রাঃ-কে এই কাজের বেশি যোগ্য বলেই তাকে লিডার বানানো হয়। সেই মুহূর্তে ইসলামে যু/*দ্ধের চেয়ে প্রয়োজন ছিলো ইসলাম শিক্ষার। ওমর রাঃ চাইলেন জনবল এবং এড়িয়া কম হলেও মানুষ যেন নেককার মুমিনে পরিনত হয়। আর তাই হচ্ছিল। খ্রিস্টা।ন/ কাফি/রেরা দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করে ও অন্যরা ইসলামের সুন্দর্য দেখে মুগ্ধ হতে থাকে। মুমিন বান্দারাই পরবর্তীতে পারস্য, রোমানদের মত সুপারপাওয়ারদের হারিয়ে দেয়।
এখানেই রয়েছে আল্লাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা-র ওয়াদা।
‘অবশ্যই আমার নেককার বান্দারাই যমীনের অধিকারী হবে’ (আম্বিয়া ১০৫)।
‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে তাদের সাথে আল্লাহ তা‘আলা ওয়াদা করেছেন যে, তিনি যমীনে তাদেরকে খেলাফত দান করবেন (নূর ৫৫)।
অর্থাৎ আমাদের মুল ফোকাস করা উচিত নেককার বান্দা হওয়ায়, নেকির কাজে প্রতিযোগিতা করায়।
আমিসহ আমাদের মাঝে এসব তো নেই বললেই চলে। জুম’আয় শেষে উপস্থিতি, সিয়াম থাকলেও নেই কিয়াম, একাডেমিক বইয়ের পাহাড় পড়লেও পড়ি না কুরআন। সেই সাথে নেই ইলম অর্জনের ইচ্ছাটুকুও। হারাম-হালালের জ্ঞান আমাদের মোটেই নেই। আমরা কিভাবে অন্যকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে খিলাফত কায়েমের জন্য মানুষকে নেককার বান্দা বানাবো?
সুতরাং আমাদের কাজই হচ্ছে নিজেকে শুদ্ধ করে অন্যকে আমলের প্রতি, শারিয়াহ-র প্রতি দাওয়াত দেওয়া। যতক্ষন পর্যন্ত মানুষ নেককার না হবে ততক্ষন পর্যন্ত গলাবাজি করে কোনোই লাভ নেই, শরিয়াহ বা খিলাফত কোনোটাই মানুষ প্রকৃত মুমিন না হওয়া প্রর্যন্ত পাওয়া যাবে না।
আজকাল আমাদের অবস্থা এই যে আমরা আমাদের পছন্দের বক্তাদের থেকেই ইলম নেই। ভাইরাল বক্তার দামি দামি বই কিনি। কুরআন-হাদিস কি বলে মিলিয়েও দেখি না। আবার আজকাল দেখা যাচ্ছে সো কলড ইসলামিক এক্টিভিস্টদের যারা কিনা যখন তখন শরিয়তের ফাতওয়া জারি করে দিচ্ছে। আবার কেউ তাগু//তের কাছে শরিয়াহ আইন চাচ্ছে।
অথচ আল্লাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা বলেনঃ ‘‘তুমি কি দেখ নি তাদেরকে যারা দাবি করে যে, তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তারা বিশ্বাস করে, অথচ তারা তাগূতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, যদিও তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাগূতকে অবিশ্বাস করার আর শয়তান চায় তাদেরকে ভিষণভাবে পথভ্রষ্ট করতে? সূরা (৪) নিসা: ৬০।
সিরিয়ার বিষয়ে এখনও অজানা। এ ব্যতীত বর্তমানে কোথাও শরিয়াহ মোতাবেক খিলাফত কায়েম আছে বলে আমি মনে করি না। এটি বলার কারন হলো, খোলাফায়ে রাশেদার আলী রাঃ এর পর শুধুমাত্র ওমর ইবন আব্দুল আজিজ রহঃ-কে সালাফরা খোলাফায়ে রাশেদার সাথে সাদৃশ্য মনে করেন। কোনো মুসলিম নেতার সমালোচনা করা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং আমারাই প্রকৃত মুমিন নই!!
আমাদের প্রাথমিক করণীয়ঃ
কুরআনকে কন্টিনিউয়াস বুঝে খতম দিতে থাকা।
প্রসিদ্ধ কোনো তাফসির গ্রন্থ পড়া।
প্রসিদ্ধ কোনো সিরাত গ্রন্থ পড়া।
খোলাফায়ে রাশেদা সম্পর্কে জানা।
খোলাফায়ে রাশেদা যুগের পর অন্তত উমাইয়া খিলাফত সম্পর্কে জানা।
সালাফদের আকীদা ধারন করা।
হারাম হালাল জানতে নির্ভরযোগ্য ও অধিক নিরাপদ ফিকহ জানা ও গ্রহন করা।
সর্বদা কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে কথা বলেন এমন আলেমদের সরনাপন্ন হয়ে জেনে নেওয়া।
আমার মতো মানুষের লেখাটি এতদূর পড়ার জন্য জাযাকাল্লাহু খায়রন। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
– মুহাম্মাদ সাকিবুল ইসলাম
১৬ রমজান ১৪৪৬ হিজরি।
