মিলাদ প্রসঙ্গ
بسم الله الرحمن الرحيم
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি খুটিবিহীন আসমান সৃষ্টি করেছেন। যার মাধ্যমে আমরা শরিয়াহ শিখেছি সেই নবী এবং রাসূলের ও তার পরিবারের উপর দূরুদ ও সালাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
প্রসঙ্গঃ মিলাদ।
নিকৃষ্টতম কাজ হচ্ছে দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি এবং প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই হলো ভ্রষ্টটা, আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিনতি জাহান্নাম – আন নাসায়ী ১৫৭৮
মুহাম্মাদ ﷺ অথবা সাহাবায়ে কেরামের জামানায় কিংবা তাদের পরবর্তী যুগেও মিলাদ, দোয়া মাহফিল, ইছালে সাওয়াব-এগুলোর আনুষ্ঠানিকতার দূরদূরান্ত প্রর্যন্ত কোনো প্রমাণ নেই। এটিই সাব্যস্ত করে যে, মিলাদ কিংবা দোয়া মাহফিল একটি খিলাফে সুন্নাত কর্মকান্ড। একজন আজীবন ও মৃত্যু পরবর্তী সময়েও সুন্নতের উপর থাকা ব্যক্তির মিলাদ আয়োজন করা মতেও ইনসাফের কাজ নয়।
আমরা দুনিয়ার লাভ-ক্ষতির হিসাব খুব ভালো বুঝলেও আখিরাতের বেলায় কেন যেন বুঝতে চাই না। মিলাদের এর মতো খিলাফে সুন্নাত ও বিদ’আতি কর্মকান্ডের মাধ্যমে মৃত ব্যাক্তি কিংবা না সজনদের কোনো উপকার হবে না।
বিদ’আতকারীরা হাউজে কাউছারের পানি পান করতে পারবে না – বুখারী ৪৭৪০, ৭০৪৮, ৭০৪৯, ৭০৫০
সুতরাং শুধুমাত্র লোকে কি বলবে কিংবা সামাজিক মর্যাদা রক্ষার খাতিরে কে নিজের বিপদ ডেকে আনবে? মানুষকে খাবার খাওয়ানো নিসন্দেহে ভালো কাজ, তবে মিলাদের মাধ্যমে যাদের খাওয়ানো হয় এদের অনেকেরই বাসায় পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে। এদের থেকে এলাকার ইয়াতিম, দুস্থদের খাওয়ানো বেশী যুক্তিযুক্ত।
তাহলে উপায় কি?
মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কেবল তিনটি আমল ব্যতীত।
(১) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ। (যেমন মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ, অনাবাদী জমিকে আবাদকরণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থাকরণ, দাতব্য চিকিৎসালয় ও হাসপাতাল স্থাপন বই ক্রয় করে বা ছাপিয়ে বিতরণ, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি।
(২) ইলম, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়।
(৩) সুসন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে।
– (মুসলিম হা/১৬৩১, মিশকাত হা/২০৩)।
আমাদের শহরে এমন বহু তাওহীদ প্রচারকারী মাসজিদ ও মাদরাসা রয়েছে যেগুলো পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে অচল হয়ে আছে। সরজমিনে উপস্থিত হয়ে এগুলোতে আংশিক কিনা সম্পূর্ন দান করা সম্ভব। এগুলো কিয়ামত অবদি চালু থাকলে ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ হিসেবে মৃতয়ের কবরে সাওয়াব চলমান থাকবে ইন শা আল্লাহ্।
اِنۡ تُبۡدُوا الصَّدَقٰتِ فَنِعِمَّا هِىَۚ وَاِنۡ تُخۡفُوۡهَا وَ تُؤۡتُوۡهَا الۡفُقَرَآءَ فَهُوَ خَيۡرٌ لَّكُمۡؕ وَيُكَفِّرُ عَنۡكُمۡ مِّنۡ سَيِّاٰتِكُمۡؕ وَاللّٰهُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِيۡرٌ
অর্থঃ যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান কর তবে তাও উত্তম, আর যদি তোমরা তা গোপনে কর এবং তা অভাবগ্রস্তদেরকে দান কর, তবে তা তোমাদের জন্য আরো উত্তম, অধিকন্তু তিনি তোমাদের কিছু গুনাহ মোচন করে দেবেন, বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা করছ, আল্লাহ তার খবর রাখেন।
প্রসঙ্গঃ কবর পাকা করা।
বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায় মোট ৫টি বিষয় রাসূলুল্লাহ ﷺ নিষেধ করেছেন: কবর চুনকাম করা, কবরের উপরে বসা, কবর বাঁধানো বা কবরের উপরে ঘর জাতীয় কিছু তৈরি করা, কবরের উপরে লেখা এবং অতিরিক্ত মাটি এনে কবর উঁচু করা।
আবু দাউদ, নং ৩২৩৫, ৩২২৬; তিরমিযী, ১০৫২; ইবনুল আসীর, জামিউল উসূল ১১/১৪৫-১৪৬।
সুতরাং কবর পাকা করা হারাম। মুহাম্মাদ ﷺ নিজে উঁচু কবর ভাঙার নির্দেস দিয়েছে – মুসলিম, কিতাবুল জানায়েজ ৯৬৯।
